নাছির উদ্দিন সোহেল, কক্সবাজার ;

কক্সবাজার শহরের পাশেই সমিতিপাড়া। অথচ টানা বৃষ্টি ও বন্যার পানিতে কয়েক দিন ধরে পানিবন্দি হয়ে পড়েছিল এলাকার শতাধিক পরিবার। স্থানীয়দের অভিযোগ, চুলায় আগুন জ্বলেনি, রান্না হয়নি, তবুও তাদের খোঁজ নিতে তেমন কেউ আসেনি।

এই নীরব দুর্ভোগের মধ্যেই সোমবার (১৩ জুলাই) জলবায়ু উদ্বাস্তু ও বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ায় প্রথম আলো বন্ধুসভাপ্রথম আলো ট্রাস্টের সহযোগিতায় কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সমিতিপাড়ায় ২৬০টি পরিবারের হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন কক্সবাজার বন্ধুসভার স্বেচ্ছাসেবকেরা।

প্রতিটি ত্রাণ প্যাকেটে ছিল চাল, সেমাই, চিনি, আলু, পেঁয়াজ, টোস্ট বিস্কুট, চিড়া ও লবণসহ প্রায় এক হাজার টাকা মূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী।

খাদ্যসামগ্রী নিতে আসা ৭৮ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা বলেন, “শহরের এত কাছে থেকেও কয়েক দিন পানিবন্দি ছিলাম। কেউ খোঁজ নেয়নি। দুই-তিন দিন রান্না করতে পারিনি। প্রথম আলোর এই সহযোগিতা আমাদের অনেক উপকার করেছে।”

হাঁটুপানিতে ঘেরা বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে খোরশিদা আক্তার বলেন, “খবর রাখার কথা ছিল সরকার ও জনপ্রতিনিধিদের। কিন্তু তাদের কাছ থেকে কোনো সহায়তা পাইনি। প্রথম আলো ও বন্ধুসভা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।”

ত্রাণ বিতরণকালে কক্সবাজার বন্ধুসভার সভাপতি আবদুল নবী বলেন, “আমরা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘবের চেষ্টা করছি। প্রথম আলো ট্রাস্টের সহযোগিতায় এই মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।”

কক্সবাজার বন্ধুসভার সদস্যরা জানান, জলবায়ু পরিবর্তন ও সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ কিছুটা হলেও কমাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও মানবিক সংকটে অসহায় মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তাঁরা।

ত্রাণ বিতরণে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক উলফাতুল মোস্তফা রানা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মারগুব মোর্শেদ, অর্থ সম্পাদক হুমায়ুন কবির আজিজ, প্রচার সম্পাদক ইশরাফ উদ্দিন (গালিব), পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক আয়েশা ছিদ্দিকা তাসকিয়া, জেন্ডার ও সমতা বিষয়ক সম্পাদক নাদিয়া আক্তার রেশমি, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুজিবুল হাসান আরিফ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক আল আমিন, দুর্যোগ ও ত্রাণ সম্পাদক মুবিনুল ইসলাম এবং বন্ধু নাছির উদ্দিন সোহেল ও মো. আরিফুল কবির।

দুর্যোগের সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এ উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সাময়িক স্বস্তি এনে দিয়েছে। আয়োজকেরা জানান, মানবিক সংকটে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।